আমার প্রাইভেট মেডাম আমার কথায় চমকে আমার দিকে তাকিয়ে রইল। কিছুক্ষণ আগেই মেডামের সামনে ভাপা পিঠা দিয়ে মেডাম কে খেতে বলছিলাম।মেডাম পিঠা না খেয়ে পিঠার দিকে তাকিয়ে ছিল। তাকিয়ে থাকা দেখে বললাম মেডাম পিঠা না খেয়ে পিঠার দিকে তাকিয়ে আছেন কেন? মেডাম কিছু বলছে না দেখে মেডাম কে আবার বললাম,, পিঠা খাবেন না? মেডাম আমার দিকে তাকিয়ে আমতা আমতা করে বলতে লাগল ,, আসলে তাসনিয়া বলছিলাম কি,,, জ্বি বলুন । এই বছরে এখনও আমাদের বাড়িতে ভাপা পিঠা বানানো হয় নাই। আমার কাছে টাকা পয়সাও নেই যে চাউল,গুড় কিনে এনে ভাপা পিঠা বানিয়ে আমার ছেলে তাসিন কে খাওয়াবো। বাবা,, ভাইয়াদের বললেও তারা গুড়, চাউল কিনে এনে দিবে না। তুমি যে পিঠাগুলো দিছো এগুলো আমি বাড়িতে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম তাসিনের জন্য। পিঠাগুলো তুমি একটা বাটিতে ঢেকে রেখে দাও আমি বাড়িতে যাওয়ার সময় নিয়ে যাবানি। মেডাম তাই আপনি পিঠা খাবেন না? না আমি পিঠা খাবো না। আপনি পিঠাগুলো খান। আপনি বাড়িতে যাওয়ার সময় আমি আরও পিঠা দিয়ে দিবানি। মেডাম পিঠা না খেয়ে আমার দিকে ছলছল চোখে তাকিয়ে বলল,, তোমার আর পিঠা দিতে হবে না। যেগুলো দিছো আমাকে খেতে এগুলোই হবে।এখন পড়। মেডামের কথায় বইয়ের দিকে তাকিয়ে পড়তে লাগলাম। _____________ স্কুলে থেকে আসছি তখনই মেডামের বাড়ি থেকে হইচই পেয়ে মেডামদের বাড়িতে গেলাম। মেডামদের বাড়িতে যেয়ে দেখি মেডাম কে তার মেজো ভাই মুখে থাপ্পড় মারছে। মেডামের বাবা কিছু বলছে না কিন্তু মেডামের মা মেডামের মেজো ভাইকে যেয়ে থাপ্পড় মারল,, আর বলতে লাগল, আমার মেয়ের শরীরে তুই হাত দিস আমার সামনেই তোর কত বড় সাহস? সাহসের কি দেখছো। বেশি কথা বললে তোমাকেও ভাত দিব না বলে দিলাম। তোমার ছোট মেয়ে আবার তোমার নাতি ২ জন কে ভাত দেওয়া আমার সম্ভব না। তোমার ছোট মেয়ে কে বলো তোমার নাতিনকে নিয়ে এ বাড়ি থেকে চলে যেতে। না চলে গেলে তোমার মেয়ে কে আমি মেরেই ফেলব। আমার ছোট মেয়ে এ বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে তার আগে আমার ছোট মেয়ের যে তিন লক্ষ টাকা তোরা তিন ভাই আর তোর বাপ খাইছোস সেই টাকা দে। আমি তোমার মেয়ের কোন টাকা খায় নেই যারা খেয়েছে তাদের বলো। আর একটা অতিরিক্ত কথা বলবা না। তোমার ছোট মেয়ে আর তার ছেলে কে নিয়ে আজই এই বাড়ি থেকে চলে যেতে বলবা নাহলে কিন্তু একদম ভালো হবে না। মেডাম তার মেজো ভাইয়ের কথা শুনেই তার ভাইয়ের পা ধরে কাঁদতে লাগল আর বলতে লাগল, মেজো ভাইয়া তোমার পায়ে পড়ি। তাসিনকে নিয়ে আমি কথায় যাবো বলো। আমাকে আর কয়দিন থাকতে দাও তোমাদের বাড়িতে। আমি তোদের ২ জনের একজনকেও ভাত দিতে পারব না। আমাকে ভাত দিতে হবে না। আমার ছেলে কে তুমি কয়দিন ভাত দাও তাতেই আমার হবে। আমার ছেলেকে তোমাদের বাড়িতে রাখো কয়দিন আর খেতে দাও। বিশ্বাস করো আমি কয়দিন পর আমার ছেলেকে নিয়ে যাবো। মেডামের কথায় মেডামের মেজো ভাই কিছুক্ষণ চুপ করে রইল,, আর আমি মেডামের দিকে চোখ ভর্তি টলমল পানি নিয়ে তাকিয়ে ভাবতে লাগলাম মেডামের কি কস্ট,,, আমার ভাবনার মাঝেই মেডামের মেজো ভাই বলল। আচ্ছা তোর ছেলে কে কয়দিন থাকতে খেতে দিব কিন্তু তোকে থাকতে খেতে দিতে পারব না আমি। আমাকে তোমার থাকতে খেতে দিতে হবে না। আমার ছেলেকেই খেতে থাকতে দিলে হবে বলেই মেডাম তাসিনকে কোলে করে নিয়ে গেল মেডামের মায়ের রুমে,, ____________ সন্ধার সময় সিঁড়ির পর বসে মেডামের কথা ভাবছি মেডামের জীবন টা কত কস্ট, তখনই মেডাম আমার পাশে এসে বলল,, তাসনিয়া তোমার আম্মু কোথায়? আম্মু তো ঘরে। আম্মু কে কি দরকার মেডাম আপনার? হুম দরকার ছিল। আচ্ছা ব'লেই আম্মু ডেকে নিয়ে আসলাম। আম্মু এসেই বলল,, সোনিয়া কিছু বলবা?( মেডামের নাম সোনিয়া) জ্বি বলতে চেয়েছিলাম কি। আপনাদের বাড়িতে কিছুদিন আমাকে রাখতে পারবেন? মেডামের কথায় মা কিছু না বলে চুপ করে দাড়িয়ে রইল। আমি ফট করে বলে ফেললাম। মেডাম অবশ্যই থাকবেন। আমার সাথে থাকবেন আপনি। আমার কথায় আমার আম্মু আমার দিকে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইল,, চলবে,,, গল্পের নামঃ #মায়ের_ভালোবাসা
Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Nulla elementum viverra pharetra. Nulla facilisis, sapien non pharetra venenatis, tortor erat tempus est, sed accumsan odio ante ac elit./p>
0 Reviews:
Post Your Review