নাবিল আজও মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হবার পর নিজের জুতাটা উধাও পেলো।সবার আগে লিখির কথাই মাথায় এসেছে।হনহনিয়ে চন্দ্রাহাটে এসে ফোন করলো ওর নাম্বারে।লিখি তখন গোসল করছিল।মাথায় তোয়ালে বেঁধে বের হয়ে ফোন কানে ধরতেই নাবিল এক গাদা ঝাড়ি দিয়ে বললো পাঁচ মিনিটের মধ্যে ওর জুতা ফেরত দিয়ে যেতে। 'আশ্চর্য!আমি আপনার জুতা কেন নিব?আমি আজকে চুরি করতে বের হইনি,বিকালে বের হবো' 'একদম মিথ্যে বলবেনা,আমি জানি আমার জুতা তুমিই নিছো" 'আমি নিই নাই।এবার কি পেটের নাড়িভূড়ি বের করে দেখাবো?' 'ইয়াক!!!' নাবিল ফোন কেটে কোমড়ে হাত দিয়ে চারিদিকে চোখ বুলালো।বাবার দেওয়া জুতাটাই চুরি হতে গেলো শেষমেষ । এবার জুতাটা ফিরে ফেলে তুলে রেখে দিতে হবে। 'আর পরে বের হবোনা কোনো দিন।এই জায়গায় সব চোর। আইডিয়া !!' নাবিল লিখিকে আবারও কল করলো । লিখি মুখে পাউডার লাগাচ্ছিল সে সময়ে । নাবিলরে নাম্বার দেখে রেগে মেগে রিসিভ করে বললো,' কি সমস্যা !! একটা কথা কানে যায়না আপনার ? আমাকে কেন বিশ্বাস করেন না আপনি?বললাম তো জুতা আমি নিই নাই' 'তুমি যেহেতু চোর,অন্য চোরের সাথে নিশ্চয় তোমার ভীষণ খাতির?' 'তো?' 'তো এক্ষুনি এখানে চলে আসবে।খুঁজে দেবে আমার জুতা চোরকে।' 'আমার বয়ে গেছে । এখন আমি খেতে যাব । বাই' 'আচ্ছা আমি খাওয়াবো তাও আসো' 'আসবো না । আমাদের হোস্টেলে খাবার পাওয়া যায়' 'আসবে না ?' 'না' 'টাকা লাগবে না ?' 'কিসের টাকা ? ওহ হো ! আপনাকে ধরিয়ে দেবার টাকা ? এত জলদি ম্যানেজ হয়ে গেছে ? ওকে আমি আসছি এখনই' লিখি গায়ে ওড়না জড়িয়ে বেরিয়ে পড়েছে । নাবিলের কথামতন চন্দ্রাহাটে এসে পৌঁছেও গেছে । মানুষের এত ভীড় যে কোথাও নাবিলের মতন কাউকে দেখা যাচ্ছেনা।আপন মানুষ খুঁজতেও রফাদফা হয়ে যাবে যে অবস্থা । বাধ্য হয়ে ফোন বের করে কল করলো সে। 'আমি তোমার পেছনে' লিখি পেছনে তাকিয়ে নাবিলকে দেখে বললো ,' কই আমার টাকা?' 'আগে আমার জুতা খুঁজে দাও' 'এই টাকা দিয়ে হাজারটা জুতা পাবেন । তাও সারাদিন জুতা জুতা।আপনার কি সব কিছুতেই মায়া লেগে থাকে ? কোনো কিছু হারিয়ে গেলে সেটা ফিরে পেতেই হবে?? মানুষ পায়না ! হারানো জিনিস পায়না কেউ ! এটা আপনাকে বুঝতে হবে' 'আমার কাছে সহজ মনে হয় আমি চাইলেই হারানো জিনিস ফিরিয়ে আনতে পারবো, আমার সেই ইচ্ছা শক্তি আছে ।' 'আমি যদি না থাকতাম তবে কি করে খুঁজতেন ? কার সাহায্যে ?' "দেখেছো ? তুমি আছো । না থাকলে তখন দেখা যেত" নাবিলের সাথে কথায় পেরে ওঠা যায়না । লিখি বাধ্য হয়ে হাঁটা ধরলো । অলিগলি ঘুরতে ঘুরতে একটা দোকানের সামনে এসে দাঁড়ালো লিখি । নাবিল চোখ বুলিয়ে গোটা দোকানটা দেখছে।যত নামিদামি সেকেন্ড হ্যান্ড জুতা আছে সব ঝুলানো ।ঘঁষামাজা করে নতুনের মতন করে রাখা সবগুলোকে।নাবিল এরই মাঝে নিজের জুতাটা খুঁজে পেলো ।হাত দিয়ে ধরতে যেতেই দোকানদার মন্টু ওর হাত সরিয়ে বললো,' আমার দোকানের জিনিস কেউ কেনা ছাড়া ছুঁতে পারেনা।নিবেন কিনা বলেন তবেই নামামু' লিখি ব্রু কুঁচকে বললো,' এটাই কি সেটা ?' নাবিল মাথা নাড়ালো । লিখি টান মেরে জুতাটা নিয়ে উল্টা পাল্টে ফিসফিস করে বললো,'মসজিদের বাহিরে থেকে তুলে এনেছিস তাইনা ?' মন্টু ও ফিসফিস করে বললো,'হুমম।দাম দুই হাজার বলি ? এই জুতার দাম সম্পর্কে কিছু জানো ?' লিখি মুখের ভেতরের চুইংগামটা চিবাতে চিবাতে বললো,'পাঁচ চা।আমাকে ৫০% দিবি ।' মন্টু হালকা কেশে বললো,'ভাই নিবেন কিনা বলেন।আমি কিন্তু ৫হাজারের কমে দিবনা;আমার দোকান একদরের দোকান' নাবিল কব্জি কচলাচ্ছিল । মন্টু জুতাটাকে প্যাকেটে ভরতে ভরতে বললো,'আমার দোকানের প্রথম কাস্টমার আপনি,আপনার চেহারায় কি যে মায়া !! আইচ্ছা যান দুইশ টাকা কম দিয়েন।চার হাজার আটশতে নাহয় ছাইড়া দিলাম । কি আর করার প্রথম কাস্টমার তো । দিয়া দেন' নাবিল দুম করে ঘুষি একটা মেরে দিলো । মন্টু নাক ধরে ধপাস করে নিচে পড়ে গেছে । লিখি মুখে হাত দিয়ে তাকিয়ে থাকলো । নাবিল জুতাটা নিয়ে পায়ে পরতে পরতে বললো,'যত্তসব আজাইরা লোকের ছড়াছড়ি এই এলাকায়।বাপের ছায়া থেকে না বের হলে এত বিনোদন নেওয়া হতোনা আমার।জীবন একেবারে ধন্য ' লিখি মন্টুকে ধরে দাঁড় করালো।মন্টু নাকের ব্যাথায় কিছু বলতেও পারছিলনা।লিখি আবার ফিসফিস করে বললো,'আরে জুতাটা এই লোকেরই।আমার গলায় ছু*রি ধরে এতদূর আনিয়েছে' 'ও আগে বলবানা।নিয়ে যাও এখান থেকে' নাবিল হাঁটা ধরেছে।লিখি ওর পিছু পিছু আসতে আসতে বললো,'আমার টাকাটা তো দিলেননা।একদম আপনার বাপরে ফোন করে দেবো' নাবিল পকপট থেকে পোস্টারটা বের করে লিখির মুখে ছুঁড়ে মারলো।লিখি পোস্টারটা ভালভাবে দেখে জিভে কামড় দিয়ে ডানে বামে তাকিয়ে সেটাকে ছিঁড়ে কুচিকুচি করে ড্রেনে ফেলে দিয়েছে নাবিল পকেটে হাত ঢুকিয়ে বললো,'ফটোকপি করা আছে পাঁচ কপি।' 'আচ্ছা টাকা লাগবেনা,দোয়া দিয়েন আমি আসি' 'নাবিল আবারও ওর ওড়না ধরে ফেললো।লিখি ভয়ে কি করবেনা না করবে ভাবছিল। 'আমার ফোন তো ফিরিয়ে দিলেনা' 'বললাম তো কিছু জিনিস হারালে মাটি খুঁড়েও পাওয়া যায়না।ওটাও সেরকম।উত্তরবঙ্গ চলে গেছে' 'তো চলো উত্তরবঙ্গে।আমি এখানে থাকছিনা,বাবার লোকেরা এসে যাবে যে কোনো মূহুর্তে আর যতদূর জানি তোমারও এই এলাকায় থাকা টাফ,পালানো ও হবে, সাথে আমার ফোনটাও পাওয়া হয়ে যাবে' 'আপনার ফোনের জন্য আমি এতদূর যাব?' 'তোমাকে সাথে আনায় জুতা ব্যাক পেলাম,ফোন ও নিশ্চিত পেয়ে যাব।এই রিস্ক তোমায় নিতে হবে নাহলে এই যে পোস্টার দেখছো?তোমার বাবার কাছে পৌঁছে দেবো তোমার বর্তমান ঠিকানা সমেত।আর আমার বাবাকে আমার ঠিকানা জানিয়েও লাভ হবেনা,কারণ আমি গা ঢাকা দিতে পারবো খুব সহজেই,কিন্তু তুমি একটা মেয়ে।তুমি গা ঢাকা দিতে পারবেনা এত জলদি।' লিখি ওড়না ছাড়িয়ে নিয়ে বললো,'চ্যাংড়ার শখ কত' 'রংপুরে গিয়েছিলে তাহলে?' 'সব চুরির জিনিস ওখানেই আগে যায়।বসের বাড়ি ওখানে' 'তবে আর কি।তোমাকে তো তবে যেতেই হবে।তৈরি হও' --- নাবিল কেমন স্বাভাবিক ভাবে কথাগুলো বললো আর চলেও গেলো।হাহ!!মগেরমুলুক পেয়েছে?আমার বাবা ভুলেও গেছে আমি যে তার মেয়ে।উনি নাকি আসবেন দেড় বছর পর আমায় খুঁজতে?অসম্ভব !আমার এত দরকার পড়ে নাই এমন নাছোড়বান্দা একটা ছেলের সাথে এতদূর পথ পাড়ি দপওয়ার।হুহ!' ভেংচি কেটে হোস্টেলে ফেরত চলে আসছিল সে।পথের লম্বা দেয়ালটাতে নতুন লাগানো পোস্টার দেখে থামতে হলো। ওড়না দিয়ে মুখ ঢেকে একটু কাছে গিয়ে বোঝার চেষ্টা করলো ওখানে ঠিক কার তথ্য দেওয়া। যেটা নিয়ে ভয় ছিল সেটাই হলো।বাবা এতদিন চুপ থেকে হঠাৎ আবারও বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। মাথায় হাত দিয়ে লিখি কোনোমতে হোস্টেলে চলে আসলো।হেনা বাহিরে থেকে ছুটে এসে বললো,'লিখি তোর ছবি তো এলাকার সবার হাতে হাতে।দেখেছিস?' 'হুম' 'তুই এত বড় একজন মানুষের মেয়ে,আগে তো বললিনা।' 'বলার কি আছে এতো?' 'পালিয়ে আসলি কখন সেটাই তো মাথায় নিতে পারছিনা,এতদিন কথাটা আমার থেকে লুকিয়ে গেলি?' লিখি চুপচাপ ব্যাগে জামাকাপড় পুরছে আর হেনার বলা কথা গুলো শুনছে।হেনা কথার মাঝখানে বলে উঠলো তার অনেক পড়া বাকি।পড়তে হবে।সে ব্যস্ত হয়ে গেছে পড়া নিয়ে।লিখি নিজের কয়েকটা জামা আর প্রয়োজনীয় জিনিসপাতি ব্যাগে পুরে ওড়না মাথায় দিয়ে বললো,'আমি কদিনের জন্য মামার বাড়ি যাচ্ছি' 'মামা?কেমন মামা?দেড় বছর ধরে তো আমি এটাও জানতাম না আদৌ তোর পরিবার বলে কিছু আছে কিনা' 'এখন হুট করে মনে পড়লো তাই যাচ্ছি।রাস্তার পোস্টার গুলো বৃষ্টির পানিতে পানসে হয়ে গেলে কল করে জানিয়ে দিবি, আমি সেদিন ফিরবো' লিখি চলে গেলো।হেনা ভাবছে ঠিক কতদিনে পোস্টার পানসে হয়।ভাবতে ভাবতে একটা বিক্রিয়া মাথায় আসলো।রেডি হয়ে নিলো ফরেনসিক ল্যাবে যাওয়ার জন্য। . নাবিল নিজের ব্যাগপত্র গুছিয়ে নিচ্ছিলো।জুনায়েদ এসে বললো,'আমাদের ভাল লাগেনা বুঝি?' "না সেটা নয়।কদিনের জন্য আউট অফ টাউন হচ্ছি।আবার ফিরে আসবো।মায়া লেগে গেছে এই জায়গার সাথে' 'আমরাও যেতাম তোমার সাথে কিন্তু ভার্সিটিতে কাজ আছে বলে ট্যুর মিস হলো' নাবিল ওদের টাটা দিয়ে বেরিয়ে গেছে।ফোন নিয়ে লিখিকে কল করার আগেই দেখলো ও আগে থেকে ব্যাগ নিয়ে চন্দ্রাহাটে একজন মহিলার সাথে কথা বলছে।মহিলা নাবিলকে এদিকে আসতে দেখে এক ছুটে পালিয়ে গেলো।নাবিল ওনার নাগালই পেলোনা। 'উনি কে ছিলেন?' 'তাতে আপনার কি?যাবেন নাকি যাবেননা?কতক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছিলাম আমি' 'তুমি তো বললে যাবেনা,তাই তো ধীরে সুস্থে আসছিলাম; হঠাৎ মন পাল্টালে কেন?' 'ভাবলাম আপনি যেহেতু আপনার ফোন ছাড়া বাঁচতে পারবেনা,মানবতার খাতিরে এই টুকু করি' 'আমার ঘড়ি দাও' লিখি চোরের মতন নাবিলের মুখ চেয়ে রইলো।নাবিল ওর ওড়না টেনে ধরে বললো,'ইতিউতি না দেখে আমার ঘড়ি ফেরত দাও।এতকিছুর মাঝে কোন সাহসে তুমি আমার হাতের ঘড়ি চুরি করলে?মানুষ পেলে না?' 'আপনি সব এত দামী দামী পরেন কেন?আমার কি দোষ' 'দেখা গেলো একদিন এই আমিটাকেই উঠিয়ে নিয়ে যাবে' লিখি মুখ বাঁকিয়ে ব্যাগ থেকে ঘড়ি বের করে দিলো নাবিলের হাতে।চেয়েছিল এটা পথে কোথাও বেচে দেবে।তা আর হলোনা।তাই মন খারাপ করে নাবিলের পিছু পিছু চললো সে। --- বাসে উঠার পর নাবিলের কাছে তার মায়ের ফোন আসলো।মা জানালেন জনাব অনাবিল নাকি লোক পাঠিয়েছেন ছাত্রাবাসে।নাবিল যেন সরে যায়। 'মা তুমি চিন্তা করো না।আমি আপাতত অন্য জায়গার জন্য রওনা হয়ে পড়েছি।' 'কোথায় যাচ্ছিস জিজ্ঞেস করবো না।কারণ তোর বাবা আমাকে পাকড়াও করলে আমি সত্যটা চেপে রাখতে পারবোনা।সাবধানে থাকিস' 'এই এই আমি আমড়া খাবো' 'কার গলা শোনা যায়?তোর সাথে অন্য কেউ আছে?' 'না কেউ নেই।বাসের একটা পেসেঞ্জার' 'আচ্ছা,যেখানে যাচ্ছিস পৌঁছালে আমাকে খবর দিস' নাবিল ফোন রাঝতেই দেখলো লিখি আমড়া হাতে বসে আছে।নাবিলের থেকে বিশ টাকা চাইলো।নাবিল মুখ গোমড়া করে বিশ টাকার নোট দিলো আমড়াওয়ালাকে। লিখি আমড়া খেতে খেতে বললো,'পালালেন কেন বাসা থেকে?' 'তোমার জেনে কাজ কি?' 'তাহলে নেমে যাই??আমি গা ঢাকা দিতে না পারলেও চুরি করে বাসা ভাড়া করে বেশ থেকে যেতে পারবো' নাবিল ফোন টিপতে মন দিয়েছে,কোনো কিছুর জবাব দেয়নি।লিখি আমড়া খেয়ে কিছুক্ষণ মূর্তির মতন বসে থেকে হঠাৎ করে কি যেন খিঁচিয়ে টান মেরেছে।নাবিল ওর দিকে চেয়ে বললো,'কি করতেছো তুমি?চুপচাপ বাসের সিটে বসে থাকা যায়না?' 'আপনার কি?আমার দিকে এত মনযোগ না দিলেই হয়।ফোন টিপুন' তখনই হঠাৎ বাস থেমে গেলো সামনে বসে থাকা ভদ্র মহিলার চিৎকারে।চেঁচিয়ে বলছেন তার গলার সোনার হার চুরি হয়ে গেছে।নাবিলের চোখ কপালে। লিখি আমড়ার টুকরো লবণ মরিচে ডুবিয়ে খাচ্ছে চুপচাপ।নাবিল ফিসফিস করে বললো,'তুমি নিয়েছো তাই না?' 'হ্যাঁ এবং বাস উল্টে খাদে পঠলেও উহা আমি ফেরত দেবোনা।আপনার জিনিস ফেরত দিচ্ছি আপনি জোঁকের মতন লেগে আছেন বলে কিন্তু এই ভদ্রমহিলা কুমড়োপটাশ আমার পেছনে জোঁকের মতন লাগবে বলে মনে হয়না' মহিলা পুরো বাসের মানুষের কানের পর্দা ফাটিয়ে দিচ্ছেন নিজের খোয়া যাওয়া হারের আহাজারিতে।লিখি স্বাভাবিকভাবে খাচ্ছে কিন্তু নাবিল স্বাভাবিক হতে পারছেনা কিছুতেই।তার নিজেকেও অপরাধী মনে হতে লাগলো।মন চাইলো লিখি থেকে জোর করে হারটা নিয়ে ঐ মহিলাকে দিয়ে দিতে। তাই করলো।লিখির থেকে ওর ব্যাগটা ছিনিয়ে নিলো দেখার জন্য,সেসময়ে ঐ মহিলা কোমড়ে হাত দিয়ে এগিয়ে এসে অপেক্ষা করতে লাগলেন দেখার জন্য ব্যাগের ভেতরে কি আছে। লিখি চুপচাপ নাবিলের মুখের দিকে তাকিয়ে ছিল।নাবিল ব্যাগ থেকে এক এক করে লিখির দুটো জামা,ওড়না আর পানির বোতল বের করার পর আর কিছুই পেলোনা।মহিলা তাই অন্য সিটে চলে গেছেন।নাবিল কৌতূহল নিয়ে লিখির দিকে তাকালো।লিখি আমড়ার বিচি বাহিরে ফেলে বললো,'এমন জায়গায় রেখেছি হাহাহা।থাক জায়গার নাম জিজ্ঞেস করিয়েননা।আমি হয়ত বলতে লজ্জা পাবো না,কিন্তু আপনি শুনতে দারুণ লজ্জা পাবেন' নাবিলের গাল দুটো টমেটোর মতন লাল হয়ে গেছে।মাথা ঘুরিয়ে রোবটের মতন বসে থাকলো।মহিললা পুরো বাস সার্চ করেও নিজের হার না পেয়ে চুপচাপ নিজের সিটে এসে বসে গেছেন।নাবিল ভুলেও লিখির দিকে তাকায়নি। আজ লিখি লজ্জার কথা বলে এমন লজ্জা দিয়েছে যে চোখে চোখ রাখতেও ভীষণ লজ্জা হচ্ছে তার। বাসে মেয়েরাই আগে ঘুমিয়ে পরে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে,কিন্তু আজ ঘটলো তার উল্টো। নাবিল ঘুমায়।লিখি এক এক করে ওর ফোন চেক করলো।লক করা বলে অনেক টিপাটিপি করেও ভেতরে যেতে পারেনি।তারপর ওয়ালেট নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে সব এটিএম কার্ডই পেলো।খুচরা টাকা একেবারে কম।আর ওর গোটা পরিবারের ছবি। ছবিতে ছোট বাচ্চা একটা দেখে লিখি ভাবছে এত বড় দামড়া একটা ছেলের ভাই কিনা এত পিচ্চি। সব আগের মতন রেখে দিয়ে লিখি পেছনে তাকালো মাথা ঘুরিয়ে।তাদের পেছনে দুজন লোক বসা।দেখে বড়লোক মনে হয়নি বলে সে আর ইন্টারেস্ট দেখায়নি।বড়লোক হলে বুঝিয়ে দিতো ঠেলা।বেশ বোরিং লাগছে সময়টা।নাবিলকে জ্বালালে হয়ত সময় কেটে যেতো ভেবে দু আঙ্গুল দিয়ে পিঁপড়ের কামড়ের মতন করে একখান চিমটি কেটে দিলো সে।নাবিল হকচকিয়ে ঘুম ছেড়ে সোজা হয়ে বসে পাশে তাকালো বিরক্তি নিয়ে।লিখি মুচকি হেসে বললো,'ছেলেরা বাসে ঘুমাতে হয়না' 'তো কি করতে হয়?' 'আমার সাথে গল্প করুন।আমায় জিজ্ঞেস করুন আমি কেন পালিয়ে এসেছি বাসা থেকে।আমি কোন বাড়ির মেয়ে।বাবা কি করে এসব' 'নাহ।আমার তোমার লাইফ সম্পর্কে জানা নিয়ে ভ্রুক্ষেপ ও নেই।আমাকে আমার মতন থাকতে দাও' 'আমার এভাবে বসে থাকতে ভাল লাগছেনা।দেখুন,আপনি যদি আমায় এমন বোরিং হয়ে বসে থাকতে দেন তবে আমি গোটা বাস লুট করবো তখন আমার সাথে সাথে আপনাকেও বাস থেকে বের করে দিবে' 'তুমি আমায় হুমকি দিচ্ছো? তোমার বাবার নাম্বার সেভ করে রেখেছি।একটা কল দিলেই হবে' লিখি গাল ফুলিয়ে চুপ করে থাকলো।নাবিল চোখ ডলে ফোন নিয়ে দেখলো কেউ কল করেছে কিনা তারপর আবার চোখ বন্ধ করে ফেললো।লিখি আড় চোখে দেখছে তাকে।মন চাইছে থুঁতনি টেনে ছিঁড়ে হাতে নিয়ে আসতে।ঝগড়ুটে ছেলে একেবারে ভালো লাগেনা।ছেলেরা হবে কিউট,কেয়ারিং।হাসিখুশি মুখ ওয়ালা।ছেলেরা কেন তালে তাল মিলিয়ে ঝগড়া করবে? এই ছেলেটাকে নিয়ে আর কি বলবো।শুধু ঝগড়াটে হলেও হতো।এক নাম্বারের সিরিয়াস একটা লোক।সব কিছুতে সিরিয়াস হয়ে বসে থাকে।জুতা থেকে শুরু করে ফোন,ঘড়ি।চোরের ভাত মারতে এর জন্ম হয়েছে যা বুঝছি।ভালোই ভালোই এর ফোনটা খুঁজে দিয়ে আমি পগারপার হয়ে যাবো, আর জীবনে এই লিখিকে পাবেনা কোথাও। কিন্তু চিন্তা হচ্ছে অন্য কারণে, যার কাছে আপাতত ফোন আছে অর্থাৎ সুমন ভাইয়া, তিনি তো এক এক করে সব চোরাই কৃত ফোন ফরমেট করবে।যদি এই ছেলের ফোন ও ফরমেট করে তাহলে তো সব ডাটা গায়েব।হায়হায় তখন তো আমায় কাঁচা চিবাবে এই ছেলাটা।কি করি!!সুমন ভাইয়ের নাম্বার সারাদিন বন্ধ থাকে।এটা হলো আরেক ঝামেলা' 'খবিশের মতন আঙ্গুল কামড়াচ্ছো কেন তুমি?' 'নখ তো কামড়াচ্ছি না।খবিশ বললেন কেন?আপনি যে জিভ বের করে বাবুদের মতন ঘুমাচ্ছিলেন,তখন আমি আপনাকে খবিশ বলেছি?খাচ্চোর বেডা' নাবিল দাঁতে দাঁত চেপে চুপ করে শুধু লিখির দিকে চেয়ে রইলো।মেয়েটাকে কিছু বলাই যায়না।যেন আগুনে পানির ছিঁটা দিচ্ছি।খালি ছ্যাঁত করে ওঠে।এর স্বভাবের সাথে চোর পেশা একেবারে মেলে না।এর হওয়া উচিত ছিল সরকারি হাসপাতালের নার্স।ভীতু রোগীদের ধমকিয়ে ইনজেকশান পুরতো' চলবে♥
Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Nulla elementum viverra pharetra. Nulla facilisis, sapien non pharetra venenatis, tortor erat tempus est, sed accumsan odio ante ac elit./p>
0 Reviews:
Post Your Review